বসে ধ্যান করে ৫ সেকেন্ডের মধ্যে সাহাস্রারায় আভা বৃদ্ধি পায়।


আগে, ছয় মাস বা এক বছর আগের কথা, তখন এক ঘণ্টা বা দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতো, কিন্তু আজকাল বেশ দ্রুত হয়, প্রায় দুইবার মধ্যে একবার, মাত্র ৫ সেকেন্ডে সাহাস্রারায় আলো পৌঁছাতে শুরু করে। বসা অবস্থায় ধ্যান না করলেও, সামান্য মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করলে বা শ্বাস বন্ধ (যোগবলে কুম্ভাক) করলে, খুব সহজেই সাহাস্রারায় আলো পৌঁছায়, তবে স্থিতিশীলতার জন্য বসা অবস্থায় ধ্যান করাই ভালো মনে হয়।

সাহাস্রারায় আলো পৌঁছানোর ক্ষেত্রে, বসা ছাড়াই আলো সাহাস্রারায় পৌঁছাতে শুরু করেছে, কিন্তু সেই তীব্রতা বা আলোর ঘনত্বের বিচারে, বসা অবস্থায় ধ্যান করাই ভালো মনে হয়। বসা অবস্থায় ধ্যান করলে, আলো শুধু সাহাস্রারায়ই নয়, শরীরের বিভিন্ন অংশেও ভালোভাবে পৌঁছায়, এবং কিছু কিছু জায়গায় যেখানে আলো পৌঁছায়নি, সেখানেও ধীরে ধীরে আলো প্রবেশ করে এবং সেই অংশগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ, আমি আগে থেকে ডান হাত দুর্বল ছিল এবং সেখান থেকে অন্য কোনো সত্তা প্রবেশ করতে পারত, কিন্তু যখন বসা অবস্থায় ধ্যান করি এবং বিশেষভাবে ডান হাতের দিকে মনোযোগ দেই, তখন আলো ডান হাতের প্রতিটি কোণে পৌঁছায়। আগে ডান কাঁধের আলো দুর্বল ছিল, কিন্তু এখন তা অনেকটা ঠিক হয়ে গেছে, এবং ধ্যান করার সময় ডান হাতের দিকে মনোযোগ দিলে, এখনও দুর্বল ডান কনুই এবং হাতের প্রান্তে পর্যন্ত আলো পৌঁছায়। এছাড়াও, উদাহরণস্বরূপ, ডান বুকের আশেপাশে কিছু জায়গায় বাম দিকের তুলনায় দুর্বলতা ছিল, সেই ধরনের বাধাগুলো দূর হয়ে যায় এবং শরীরের ভারসাম্য ঠিক হয়ে যায়।

এভাবে, বসা অবস্থায় ধ্যান শুধু সাহাস্রারার জন্যই নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও উপকারী। এর মূল ভিত্তি হলো সাহাস্রারার উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা, এবং সাহাস্রারায় আলো একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে শরীরের সামগ্রিক আলোর ভারসাম্য উন্নত হয়।

যোগবলে, সাহাস্রারার মাধ্যমে আলো পুরো শরীরকে একটি ঝর্ণা বা ছাতার মতো দিয়ে ঢেকে রাখে, এমন বর্ণনা করা হয়। তবে আমার মনে হয়, সাহাস্রারার থেকে ছাতার মতো কোনো আবরণ নয়, বরং শুধুমাত্র সাহাস্রারায় আলো পৌঁছানোর মতো করে আলো সক্রিয় হলেই, সেটি ধীরে ধীরে গোলাকার হয়ে ওঠে।

সাহাস্রারাকে আজকাল একটি চক্র হিসেবে গণ্য করা হয়, কিন্তু কিছু ধারা অনুযায়ী, এটিকে চক্র হিসেবে গণ্য করা হয় না। এটি ব্যাখ্যার ভিন্নতার কারণে হয়ে থাকে। তবে, আমার মনে হয়, সাহাস্রারার ভূমিকা হলো, যখন শরীরের বিভিন্ন চক্র একত্রিত হয়ে একটি সমন্বিত চক্র হিসেবে কাজ শুরু করে, তখন সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা মাথার উপরে ঘটে। এই অর্থে, এটি অবশ্যই একটি চক্র। কিন্তু, যখন আমরা শরীরের অন্যান্য চক্র, যেমন আজ্ঞা বা অনাহত চক্রের সাথে সমন্বিত হয়ে একটি বৃহত্তর আলো এবং বৃহত্তর চক্রের কথা বলি, তখন সাহাস্রারার ভূমিকা ভিন্ন হতে পারে। এটি চক্রের অংশ অথবা চক্র নয়, এমন দুটোই বলা যেতে পারে, এবং এটি দেখার দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে। যদি সাহাস্রারাকে একটি স্বতন্ত্র চক্র থেকে একটি সমন্বিত চক্রের দিকে রূপান্তরের মুহূর্ত হিসেবে দেখা হয়, তবে এটি এমন একটি অবস্থানে থাকে যা চক্র এবং চক্র নয়, উভয়ের মধ্যেই পড়ে।

ধারা হিসেবে বিভিন্ন মতামত থাকলেও, আমার মতে "চাক্রা" হিসেবে গণ্য করাই বেশি যুক্তিযুক্ত, কারণ অন্য কোনো "চাক্র" হিসেবেও দেখলে একই রকম অনুভূতি হয়, তাই "চাক্রা" হিসেবে গণ্য করলে কোনো অসঙ্গতি মনে হয় না।